দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে আগেই জনপ্রিয়তা পেয়েছেন নীহারিকা এনএম। এবার তাঁর বলিউড অভিষেক; মুক্তি পেয়েছে প্রথম হিন্দি ছবি ‘ভাই তেরা স্টার হ্যায়’। এতে রাঘব জুয়ালের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তিনি। ছবিটির মুক্তির আগে অভিনয়জীবনের এক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন নীহারিকা।
এক সাক্ষাৎকারে সম্প্রতি নীহারিকা জানান, অভিনয়জীবনের শুরুতে নানা কারণে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। তবে একটি ঘটনা এখনো ভুলতে পারেননি। নীহারিকার ভাষ্যে, একটি ছবির জন্য খ্যাতনামা এক পরিচালক তাঁকে বেছে নিয়েছিলেন। অডিশন ও লুক টেস্টও হয়েছিল।
এরপর তাঁর বাড়িতে চুক্তিপত্র পাঠানো হয়। তাতে স্বাক্ষরও করেন তিনি। চুক্তিপত্রে একটি অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয়ের শর্ত ছিল। শুরুতেই নীহারিকা নির্মাতাদের জানিয়েছিলেন, ‘পর্দায় অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না। এতে আমার খুব অস্বস্তি হয়। তাঁরা বডি ডাবল ব্যবহার করতে রাজি ছিলেন। কিন্তু ছবির নায়ক বডি ডাবলের সঙ্গে দৃশ্যটি করতে চাননি। সেটা তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এরপর আমার সামনে দুটি পথ ছিল — শর্ত মেনে নেওয়া অথবা ছবি ছেড়ে দেওয়া।’
শেষ পর্যন্ত নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন নীহারিকা। ফলে ছবিটিই হাতছাড়া হয়ে যায়। নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর কোনো অনুশোচনাও নেই। নীহারিকার মতে, কোনো দৃশ্যে অভিনয় করবেন কি না, সেটি শিল্পীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করা উচিত।
মুম্বাইয়ে শুরুর দিকের সংগ্রামের কথাও বলেছেন নীহারিকা। তিন–চার বছর আগে সেখানে এসে কার্তিক সুব্বারাজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান স্টোন বেঞ্চ ফিল্মসের সঙ্গে তিন বছরের প্রশিক্ষণ চুক্তি করেছিলেন তিনি। চুক্তির কারণে অন্য কোনো কাজে যুক্ত হতে পারেননি। দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি ছবির প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিতে হয়েছিল। এ নিয়ে নীহারিকা বলেন, ‘চুক্তির কারণে করতে পারিনি। পরে যখন দেখলাম ছেড়ে দেওয়া ছবিগুলো দারুণ সফল হয়েছে, তখন খুব খারাপ লেগেছিল।’
বলিউডে কাজ খোঁজার অভিজ্ঞতাও সুখকর ছিল না। নীহারিকার মতে, হিন্দি ছবিতে অভিনেত্রীদের চেহারা, গায়ের রং ও সৌন্দর্য নিয়ে এখনো কিছু ধরাবাঁধা ধারণা রয়েছে। নীহারিকা বলেন, ‘আমার মনে হয়েছিল, এটি এমন একটি জায়গা নয়, যেখানে আমার প্রতিযোগিতা করা উচিত।’
চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে পথচলা শুরু করেন নীহারিকা। বিভিন্ন ভাষার ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান। ২০২৩ সালে মার্কিন অ্যানিমেটেড ‘সিটকম বিগ মাউথ’–এর সপ্তম মৌসুমে অতিথি কণ্ঠশিল্পী হিসেবে কাজ করেন। বড় পর্দায় তাঁর যাত্রা শুরু হয় তামিল ছবি পেরুসু দিয়ে। পরে অভিনয় করেন ‘মিত্রা মণ্ডলী’ ও ‘ইধয়ম মুরলি’তে।
দক্ষিণি ছবির পর এবার ভাই তেরা স্টার হ্যায় দিয়ে বলিউডে নতুন অধ্যায় শুরু করলেন নীহারিকা। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থেকেই এগিয়ে যেতে চান তিনি। নীহারিকা বলেন, ‘চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আর কেউ আমাকে থামাতে পারেনি। এরপর বিভিন্ন ভাষার ছবিতে কাজ করেছি। সেই পথচলাই আমাকে আজ এখানে এনে দাঁড় করিয়েছে।’
কে